খুলনায় নারী সাংবাদিকের নামে মিথ্যা চার্জশীট; এসআই আবু হাসানের লুকোচুরি!

খুলনা

২০১৭ সালের ৫ ও ৭ জানুয়ারীতে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম শীর্ষক শিরোনামে খুলনার কন্ঠ ও আওয়াজবিডি অনলাইন পোর্টালে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।একই সংবাদ প্রকাশিত হয় দৈনিক ভোরের কলাম প্রিন্ট, ক্রাইম ভিশন অনলাইন, কারেন্ট নিউজ অনলাইন, মুক্তকলাম অনলাইন, আওয়াজবিডি অনলাইন, দৈনিক অন্যদিগন্ত প্রিন্টেও প্রকাশিত হয়।
এ রিপোর্টে বাদীপক্ষের অভিযোগে নাম আসে মোঃ তকদির হোসেন বাবু নামে এক ভূমিদস্যুর । এরই জের ধরে ভুমিদস্যু তকদির হোসেন বাবু ক্ষেপে যায়।
পরে, তিনি ২০১৩ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭/৬৬ ধারায় খালিশপুর থানায় অনলাইন পত্রিকা ‘খুলনার কন্ঠ’র বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন। যার খালিশপুর থানা মামলা নং-৩২/১৭ইং প্রথমে মামলার তদন্তভার পড়ে এসআই রফিকুল ইসলামের হাতে। পরে দীর্ঘ ৬ মাস সে তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিক ইভা ও তার স্বামী রানার কোনরুপ সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দিতে চাইলে তকদির হোসেন তাতে বাঁধা দেয়।
সম্প্রতি, ২য় মেয়াদে মামলাটি এসআই মোঃ হাসান নামে আরেকজন তদন্ত কর্মকর্তার হাতে পৌছালে উল্লেখিত তকদীর হোসেন বাবু নিজেকে নেতা পরিচয়ে চার্জশীট দিতে বাধ্য করে। পরে রাতের আধারেই চার্জশীট দিয়ে হাসান অন্যত্র বদলি হয়ে যায় বলে খবর পাওয়া যায়।
সুত্র বলছে, তকদীর হোসেন বাবু এ সময় ৩ লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে থানার ওসি ও মামলার আইও কে হাত করে চার্জশীট দিতে বাধ্য করে।

তকদীর হোসেন বাবু সম্প্রতি খালিশপুর থানায় সাংবাদিক ইভার বিরুদ্ধে আবারো আরেকটি সাধারণ ডায়েরী করে রাখে যার নং ২৪৮/১৭ইং।
এদিকে, আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যম ‘খুলনার কন্ঠের সম্পাদক শেখ রানা ও প্রকাশক ইশরাত ইভার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার হয়রানি বন্ধে সারাদেশে বিভিন্নস্থানে প্রতিবাদসভা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ইশরাত ইভা জানান, খুলনার কন্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশকের নামে দায়েরকৃত তথ্যপ্রযুক্তি আইনে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ রুপেই মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। গত বছরের ৫, ৭ ও ২৪ জানুয়ারী ভূমিদস্যু নিয়ে তিন পর্বের সংবাদ প্রকাশ করার জের ধরেই তকদির হোসেন বাবু তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ খালিশপুর থানায় অন্য একজনের আইডি দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মিথ্যা মামলা রুজু করেন। মামলায় ফেসবুক আইডি বা মোবাইল ফোনে তার কাছে অর্থ চাওয়া হয়েছে তা সবকিছুই মিথ্যা ও সাজানো। যার কোন কিছুর সাথেই খুলনার কন্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশকের কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। মামলার এজাহারে যে ফেসবুক আইডি উল্লেখ করা হয়েছে সেটা খুলনার কন্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশকের নয়। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করা হয়েছে যে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবী করা হয়েছে কিন্তু মামলার এজাহারে তিনি কোন মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করেন নাই বা স্থানও। কোন নাম্বার থেকে চাঁদা দাবী করেছে বা কোন নাম্বারেই চাঁদা দাবী করেছে সেটাও তিনি উল্লেখ করেননি মামলার এজাহারে। এবং এজাহারে লিখেছেন তার বন্ধুর মাধ্যমে চাঁদা দাবি করেছি কিন্তু চার্জশীটে লিখেছেন তার বাসায় যেয়ে। আমি যে পরিবারকে নিয়ে নিউজ করেছি সেই পরিবারের বড় ছেলে কুদ্দুস শেখ বাদী হয়ে খুলনা খালিশপুর থানায় ২০১৪সালে ১টি মামলা দায়ের করেন তাতে ভূমিদস্যু বাবু ও তার কাজের ভাগীদার কাইয়ুম শিকদার সহ ৫জনের নাম দেয়া হয়। যাহার মামলা নং- ১১। এরপরও এই ভূমিদস্যু তকদির হোসেন বাবুর রাহাজানি থামে না। সে আবারও তার সাঙ্গোপাঙ্গো নিয়ে হামলা চালায়। কুদ্দুস শেখ আবারও ২০১৫সালে খালিশপুর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন তাতে আসামীরা একই। যাহার মামলা নং-০৩। ইতোমধ্যে দুটি মামলারই চার্জশীট খুলনা জজ কোর্টে জমা দেয়া হয় কিন্তু ভূমিদস্যু তকদির হোসেন বাবু নিজ উকিল দিয়ে নারাজী করে এখন পর্যন্ত পরিবারটিকে নির্যাতন করে আসছে। মামলায় দুজন তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন, এসআই মোঃ আব্দুল হালিম ও এসআই মোঃ জেলহাজ্ব উদ্দিন খালিশপুর থানা।
এরই মধ্যে ইশরাত ইভা কে ফেসবুকে ছবির কমেন্টসে এবং ম্যাসেজে হত্যা সহ এসিড মারার হুমকি দিয়েছে খুলনা খালিশপুরে বসবাসরত তকদির হোসেন বাবু।
এ ঘটনায় সাংবাদিক ইশরাত ইভা নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও ভূমিদস্যু তকদির হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে খুলনা সদর থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন। থানা থেকে এজাহারটি ৬ই এপ্রিল নথি ভুক্ত হয়েছে। যাহার মামলা নং ১৩। সেই মামলার এখনো কোন চার্জশিট করেনি খুলনা সদর থানা।
যে ওসি খালিশপুর থানায় কর্মরত ছিলেন এবং এই মামলার প্রথম কর্মকর্তা পাঁচ মাস আগে এক সাথে বদলি হয়ে যান। এবং দ্বিতীয় বারের মতো এস আই আবু হাসানের কাছে পাঁচ মাস আগে মামলা দেয়া হয়। কিন্তু এই পাচ মাসের ভিতরে আবু হাসান বা থানা কর্তৃপক্ষ ইশরাত ইভাকে কিছু জানাতে পারেনি এমনকি ইশরাত ইভা থানায় ফোন দিয়েও কিছু জানতে পারেনি। গোপনে তারা এগুলো করেছে বলে উল্লেখ করে ইশরাত ইভা।
গত ৩১ ডিসেম্বর খালিশপুর থানার এস আই আবু হাসান কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ভাড়াটে সাক্ষী এনে ইশরাত ইভার নামে ৫৭/৩৮৫ ধারায় মামলার চার্জশিট জমা দেয়।
খালিশপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু হাসানের (01708903293) সাথে যোগাযোগের সব রকম চেষ্টা করা হলেও তিনি কারো সাথেই কোন প্রকার যোগাযোগ করছেন না। মুঠো ফোন বিজি করে রেখেছেন রিসিভ তো করছেই না। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একাধিকবার ক্ষুদে বার্তার কোন সাড়া মেলেনি। এ বিষয়ে তার সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করা হলে কখনও তাকে চিনছেন না আবার কখনও বা বলছেন খুলনা রেঞ্জে বদলি হয়েছেন।
এ বিষয়ে খালিশপুর থানার ওসি মোঃ নাসিম খানের (01713373292) সাথে যোগাযোগ করলে এক সপ্তাহ যাবৎ তিনি ফোন রিসিভ করছেন না। কখনো রিসিভ করছে তার গাড়ির ড্রাইভার অথবা কোন এসআই। থানায় গেলেও তার দেখা মিলছে না। কেনো তিনি বা তার থানার এসআই আবু হাসান কথা বলতে চাচ্ছেন না এ নিয়ে সংশয় রয়েই গেল।
২৬শে ডিসেম্বর ২০১৭সালে চার্জশীট জমা দিয়েই অন্যত্র বদলি হওয়ার কআরন কি?
ওসির ফোন না ধরা বা দেখা না করার কিসের ইঙ্গিত বহন করছে?
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খালিশপুর থানার ডিউটি অফিসার এসআই শাহ আলম জানান, এসআই আবু হাসান ডিসেম্বরের ২৮তারিখ বদলি হয়েছে এবং তাদের কাছে তার কোন নাম্বার নেই। তারপর তিনি বলেন সকালে ফোন দিন দেখি ওনার নাম্বার জোগাড় করতে পারিকিনা।এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *