ভালোবাসা বুঝে নিতে হয় : সাত

লেখক:
প্রকাশ: সোমবার মে ১১, ২০২০ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
পাতাটি ৩৭৩ বার পড়া হয়েছে।

আকাশ আমার জন্য একটা নীল শাড়ি এনে হাতে দিলো আর বললো কাল এটা পড়ে আসবে আমরা ঘুরতে যাবো। এই বলে সে চলে গেলো আর আমি থ হয়ে তাকিয়েই রইলাম।

সকাল হলো আমিও মনের আনন্দে ওর দেয়া শাড়িটা বের করলাম আর গায়ে জড়াতে লাগলাম মনে হচ্ছিলো ওর সংস্পর্শ অনুভব করছিলাম। এক অন্য রকম অনুভুতি, আকাশ যেনো আমার পাশেই আছে।

ওর কথা ভাবতে ভাবতে মনের মাধূরী মিশিয়ে সাজতে লাগলাম, হঠাত মনে হলো আকাশ তো বেশি সাজগোজ পছন্দ করে না তাই আর বেশি সাজলাম না।

আমি বের হবার আগে আকাশ কে কল করলাম- কখন বের হবে? আমি কোথায় আসবো?

– তুমি কি রেডি?

– হ্যা আমি রেডি।
– আচ্ছা তাহলে বের হও আমিও বের হচ্ছি।
– ঠিক আছে।

মোবাইল টা ব্যাগে নিয়ে বের হয়ে গেলাম। অনুভূতি টা ছিলো অ্ন্যরকম, শাড়িটা পরার পর থেকেই আকাশ কে অনুভব করছি। আজ সারাদিন আকাশের সাথে কাটাবো ভাবতেই আনন্দ লাগছে।

নদীর তীরে আকাশ আমার হাত ধরে হাটছিলো ধীরে ধীরে, মৃদু ঠান্ডা হাওয়া বইছে, উপরে আকাশ পরিষ্কার কোনো মেঘ নাই তার বুকে এদিকে আমার আকাশেরও চোখে ভালোবাসা মনে হচ্ছে আজ আর বাড়ি ফেরার ইচ্ছা নাই ওর। হঠাত বললো-

তোমাকে শাড়ি পরা দেখতে খুব ইচ্ছা করছিলো তাই আজকের পরিকল্পনা। তোমার খারাপ লাগেনি তো?

– খারাপ লাগার কি আছে এতে?

– তোমার ইচ্ছা আছে কি নাই না জেনেই আমি তোমাকে আজকে আসার জন্য বললাম এজন্য তোমার ইচ্ছাটা জানার দরকার ছিলো আগে। তাই বললাম আমার এমন কর্মকান্ড তোমাকে কষ্ট দেয় নি তো?

– না, এমন ভেবো না। তুমি নিজে থেকেই আমাকে এভাবে ঘুরতে নিয়ে এলে এটা অবশ্যই আমার ভালো লাগার বিষয় তা কি তুমি বুঝোনি? আর আমার অন্য কোনো কাজ বা সমস্যা থাকলে তো আমিই তোমাকে বলতাম অবশ্যই।

– হুম তা ঠিক আছে। সুবিধা অসুবিধা অবশ্যই জানাতে হবে। তবে একটা কথা কিন্তু এখোনো বলা হয়নি তোমাকে।

– কি সেটা?

– তোমাকে শাড়িতে খুব সুন্দর লাগছে ঠিক যেমন টা মনে মনে ভেবেছিলাম তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি সুন্দর।

ওর মুখে নিজের প্রশংসা শুনে একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললাম। এমন সময় ও আমার অন্য হাতেও ধরলো আর মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো আমি আরও বেশি লজ্জায় পরে গেলাম। সে বললো-

– আমি কি তোমার সৌন্দর্য্যের প্রশংসা করতে পারিনা?

– মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁসূচক ইঙ্গিত দিলাম।( ওর দিকে তাকাতে পারছিলাম না। )

– আমার চোখের দিকে তাকাও।

অনেকটা সময় ইতস্ততায় কাটিয়ে অবশেষে সাহস করে মাথা উচুঁ করে ওর চোখে তাকালাম। ও বললো – আমার সাথে কিসের লজ্জা?

– না, কই কিসের লজ্জা? না তো।

– আমার চোখে ভালো করে তাকাও আর বলোতো কি দেখতে পাচ্ছো।

– হ্যাঁ দেখছি তো।

– কি দেখছো?

– দেখছি। (এর বেশি কিছুই বলতে পারছিলাম না আর)

– আমার চোখে তোমাকে দেখতে পাচ্ছো না?

– হুম পেয়েছি। আমাকেই দেখতে পাচ্ছি।

– এভাবেই সারাজীবন আমার চোখে তুমি তোমাকে খুজে নিতে পারবে না?

– হ্যাঁ পারবো। শুধু আমাকেই না, আমার জন্য বরাদ্দ ভালোবাসাও খুজে নিতে পারবো যদি তুমি এভাবেই খুজতে দাও সারাজীবন।

– তোমাকে অনেক ভালোবাসি আর বেসে যাবো সারাজীবন । সব কথা, সব অনুভূতি মুখে বলে ব্যাখ্যা করা যায় না কিছু কিছু অনুভূতি বুঝে নিতে হয়।

– হুম।

– তুমি কি আমার না বলা কথাগুলো বুঝে নিতে পারবে না?

– চেষ্টা তো করি বুঝার। তবুও সব কথা বুঝতে পারি কিনা তা জানিনা।

– তুমি ইতোমধ্যে আমাকে অনেকটাই বুঝে নিয়েছো আশা করি ভবিষ্যতেও আমার না বলা কথা বুঝে নিবে।

– হুম।

আবার আমরা কিছুটা পথ হাটলাম। নদীর স্রোত, দু’তীরের সবুজ প্রকৃতি, পরন্ত বিকেল আর আমরা হাতে হাত ধরে চলছি এ যেনো সেই চিরচেনা কথাগুলোর মতই-

“কোথাও আমার হাড়িয়ে যাবার নেই মানা মনে মনে……….

আকাশ একটু পর পর আমার দিকে তাকায় আবার বলে উঠলো। – অনেক দিনের ইচ্ছা ছিলো তোমার সাথে এভাবে নদীর তীরে তোমার হাত ধরে হাটবো আজ সেটা পূর্ণ হলো। জানো, আমার আজ বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করছে না। এই নদীটা যেভাবে যতদূর পযন্ত চলছে আমরাও যদি একই ভাবে নদীর তীরে হাটতেই থাকতাম কেমন হতো বলোতো, – খুবই ভালো হতো কিন্তু সেটা শুধু কল্পনাতেই সম্ভব, বুঝলে?

– জী, বুঝলাম। কিছু কিছু কল্পনা সুখের হয় তা জানো ?

– জানি তো।

– আরেকটা কথাও জেনে নাও।

– কোন কথা?

– ভালোবাসি তোমায়।

– তাই?

– হ্যা গো, তাই। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা কখোনোই কমবে না।

– তাই যেনো হয়। আমাদের ভালোবাসায় কখোনো যেনো কমতি না হয় আর এই অটুট বন্ধন আমাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেনো অটুট ই থাকে।

– ঠিক বলেছো। এটাই আমাদের কামনা।

– তোমাকে হাসলে অনেক ভালো লাগে। সবসময় এত গম্ভীর হয়ে থাকো কেন?

– আমি এমন ই। কথা কম বলি , হাসিও কম। তবে তোমার হাসি, মান অভিমান সবই আমার ভালো লাগে বিশেষ করে যখন আমার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাও তখন আরও বেশি ভালো লাগে।

– ওহ আচ্ছা তার মানে ইচ্ছে করেই আমাকে রাগাও?

– মাঝে মাঝে। তোমার রাগী চেহারা টা দেখার জন্য।

– তুমি না, ……..মাঝে মাঝে হাসবা তাহলে মন ভালো থাকবে।

– হুম। আচ্ছা চলো এবার বাসায় ফিরতে হবে মন না চাইলেও যেতে তো হবেই।

– হ্যা চলো। তোমার ফোন বাজছে ।

– কই না তো।

– আরে এতখন ধরে বেজে যাচ্ছে শুনছো না…..?

এদিকে বালিশের পাশে আমার ফোনের এলার্ম বেজেই চলছে। হঠাত ঘুম টা ভাঙলো, বুঝলাম এতখন তাহলে স্বপ্নেই আকাশের হাত ধরে নদীর পাড়ে ঘুরছিলাম। হায়রে স্বপ্ন, কেন ভেঙে গেলি? ভালোই তো ছিলো। বাস্তবে তো অই রোবট টা আমাকে নিয়ে এভাবে যাবে না। উনার সময় ই হবে না কখোনো প্রেমিকার হাত ধরে হাটার।

[ক্রমশঃ]

মতামত জানান