ভালো থেকো (পর্ব-১৫)

রবিবার এপ্রিল ৫, ২০২০ ১০:৩৫

পাতাটি ১৮৯ বার পড়া হয়েছে।

১৪ তম পাতার পর…..

“জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব বনাম সবুজায়ন” শীর্ষক সচেতনতা মূলক উঠান বৈঠকের আলোচক হিসেবে গেলাম বুড়িরচর ইউনিয়নে। উপস্থিত নারী সাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য উপস্থাপন করছি। এ সময়ে লক্ষ্য করলাম অদূরে দাঁড়িয়ে আছে সেই মেয়েটি। অবাক হলাম।
মিটিং শেষে তাকে ডেকে একটু দূরে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম – আপনি এখানে?

বলল – পাশের বাড়িটা আমাদের।
বললাম – ওটাতো সাগর ভাইদের বাড়ি।
বলল – হ্যাঁ, উনি আমার বড় ভাই। চিনেন কিভাবে?
বললাম – আমার বন্ধু।

মেয়েটির চোখেমুখে আশার ঝিলিক খেলে উঠলো। বলল – তাহলে তো খুব ভালো।
বললাম – হুম। আচ্ছা আপনার নাম কি?
বলল – এতদিনে নাম জানতে চাইলেন? আমার নাম – তামান্না।
বললাম – নামটি খুব সুন্দর।
বলল – আমি সুন্দর না?

মেয়েটির আকস্মিক প্রশ্নে একটু বিব্রত হলাম। নিজেকে সামলে নিলাম।
বললাম – আপনার সৌন্দর্যের প্রশংসা করার অধিকারী আমি নই। ভালো থাকবেন বলে মোটর সাইকেল স্টার্ট দিলাম এবং প্রস্থান করলাম।

অফিসে এসে ভাবনায় পড়ে গেলাম। মেয়েটির ইনোসেন্ট চাহনি আমাকে একটু ভাবিয়ে তুললো। হঠাৎ একদিনের দেখায় সে আমার প্রতি কেন এত দুর্বল হয়ে পড়লো? বন্ধুবর সাগর ভাইয়ের ছোট বোন। এক বন্ধুর বোনের বিরহে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছি। তার উপর আরেক বন্ধুর বোনের হাতছানি!

বন্ধু পরিবারের অভাবনীয় প্রেম আমার জীবনে বিধাতার হেঁয়ালীপনাই বলতে হবে। সাগর ভাইকে কল দিলাম। সুকৌশলে তার পরিবারের খোঁজ খবর নিলাম। জানতে পারলাম তামান্না এবার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার্থী। শিউলী এবং সে একই কলেজের শিক্ষার্থী এবং পরস্পর সহপাঠি এটাও বুঝতে পারলাম। শিউলীর সাথে তার সম্পর্ক কেমন একটু জানতে মন চাইছে। কিন্তু আমি তাকে কল দেবনা বলেছিলাম। সুতরাং সে কল দেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

পরদিন সশরীরে আমার অফিসেই হাজির। সাথে আরো দুজন বান্ধবী। আশ্চর্য হলাম। বসতে বললাম।
পিয়নকে বললাম – আনছার মিয়া, মেহমানদের জন্য সিঙ্গারা আর কোল্ড ড্রিংকস ব্যবস্থা করুন।
সবাই একসাথে ছেঁচিয়ে উঠে বললো- না, আমরা কিছু খাবোনা।

বললাম – আপনি বন্ধুর বোন। এসেছেন, কিছু খাওয়াতে না পারলে বন্ধু জানলে কি মনে করবে?
আতঙ্কিত হয়ে বলল – না, ভাইয়াকে কোনভাবেই বলবেন না।
বললাম – কেন? কোন সমস্যা আছে?
বলল – হুম, কলেজের বাইরে কোথাও যেতে নিষেধ আছে।

সহাস্যে বললাম – আপনি ভাইয়ের নিষেধ অমান্য করেছেন। আমি আপনার নিষেধ অমান্য করলে তাতে অপরাধ হবে বলে মনে করছিনা।
হেসে দিয়ে বলল – এবারের জন্য মুক্তি দিন। আর আসবো না। বলে উঠে যাচ্ছিল।
বললাম – এই যে আর একটু বসুন। আপনার সাথে একটা কথা আছে। কৌতূহল নিয়ে বসলো।
বললাম – আপনি সম্ভবত মহিলা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিচ্ছেন?
বলল – হ্যাঁ।

বললাম – শিউলী নামে আপনার কোন সহপাঠী আছে?
বলল – হ্যাঁ, আছে। কেন বলুনতো!
বললাম – ওর সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?
বললো আমাদের বিভাগ ভিন্ন। তাই বেশী ঘনিষ্ঠ না। তবে তাকে চিনি। আপনার কি হয়?
বললাম – স্পেশাল কিছু।
বললো – ওরতো বিয়ে হয়ে গেছে।
বললাম – হুম। আচ্ছা আপনার জন্য বাকীরা অপেক্ষা করছে। এবার আসুন। গুড বাই বলে বিদায় নিলো।

ভাবতে লাগলাম। মেয়েটি অতি সাধারণ প্রকৃতির। শরীরের রং ফর্সা, গড়ন সাধারণ, চোখে মুখে কাউকে আপন করার স্পৃহা। আজকের পোষাক একটু দৃষ্টিনন্দন। কপালে দুই ভ্রর মাঝ বরাবর ছোট্ট একটি টিপ। উপর নীচে নাকের আগা এবং সিঁথির মাঝামাঝিতে নিখুঁতভাবে টিপটি স্থাপন করা হয়েছে। আমাকে এ কাজ করতে বললে স্কেল, কম্পাস ছাড়া কোনমতেই এটা আমার দ্বারা সম্ভব হতোনা।

……..চলমান

মতামত জানান