ভালো থেকো (পর্ব-৬)

রবিবার ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০ ১১:২৪

পাতাটি ১৫৭ বার পড়া হয়েছে।

৫ম পাতার পর…..

ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি বন্ধু তানিমের কল।
কিরে বন্ধু, কই তুই?
আমি – আমার বিশ্রামাগারে।
তানিম – চল আজ মর্নিং ওয়াকিং এ একটা লম্বা হাঁটা দেব।
আমি – তাই হবে, চলে আয়।

হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর গেলাম। বাড়িতে গিয়ে দুই বন্ধু মিলে হাল্কা নাস্তা আর ডাব খেলাম। ঘড়িতে সাড়ে আটটা বাজে। ইদানিং আমি শিউলীকে ফলো করি। সাড়ে আটটার দিকে কলেজে যায়। সে সময়ে আমি কলেজ রোডে থাকি। সেখানে শিউলীর সাথে দেখা হয়। কিন্তু তেমন কোন কথা হয়না। আমাদের মধ্যে আগে কতো কথার খই ফুটতো! অথচ আজকাল মনে হয় একে অপরকে চিনিই না। অনুভূতিটা অন্যরকম হয়ে গেছে। তড়িঘড়ি বেরিয়ে পড়লাম। রাস্তায় দেখা মিলল, ইদানিং আমার চিন্তারাজ্যে ১৪৪ ধারা জারী করা রানীর। দৃঢ় মাপা কদম ফেলে এগিয়ে আসছে। আমরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে থাকলে ওর আগেই চলে যাবো। তাই বন্ধুকে বুঝতে না দিয়ে উল্টা দিকে হাঁটা শুরু করেছি। যাতে শিউলীর মুখোমুখি হই।

– কিরে কই যাস? আমার দিকে কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে প্রশ্ন করল তানিম।
আমি – একটু সামনে হাঁটবো।
তানিম – কেন? আবার কৌতুহল।
আমি – বা…রে, জোয়ান মানুষ এত অল্পতেই ক্লান্ত?
তানিম – হাঁটলামতো অনেক পথ, এবার ছাড়না।
আমি – আচ্ছা রাখ এই স্কুলটার সামনে যাবো, তারপর ব্যাক করবো।

এদিকে শিউলীও কাছাকাছি এসে গেছে। যত দেখছি, ততই মজে যাচ্ছি। বিধাতার শিল্পকর্ম দেখে ভক্তিতে মাথা নুয়ে আসছে আপনা-আপনি। শিউলীকে সম্ভবত একটু বেশীই যত্ন করে বানিয়েছেন বিধাতা। অপলক তাকিয়ে আছি। এর মধ্যে শিউলীরও দীর্ঘদিনের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন দেখতে পেলাম। আজ একবার নয়, বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে। চোখে চোখ পড়ে গেলে মুহূর্তেই নামিয়ে নিচ্ছে। কাছে এসে শেষ দৃষ্টিটা একটু দীর্ঘায়িত করে দুষ্টু-দুষ্টু মৃদু হাসি দিয়ে কেটে পড়লো। দৃশ্যটা তানিমের নজর এড়ায়নি।

– কিরে ব্যাটা কি হচ্ছে এসব? হেসে হেসে প্রশ্ন করলো তানিম।
আমি – কই, কি হয়েছে?
তানিম – তাইতো বলি উল্টা পথে কেন? এখানেতো ডুবে ডুবে জল খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। তা কে এই রূপসী?
আমি – এভাবে বলিসনা। আসলে তুই যা ভাবছিস তা নয়। ও আমাদের বন্ধু শিমুলের বোন।
তানিম – আমার মন বলছে, বন্ধুর বোন ছাড়াও তোর স্পেশাল কিছু।
আমি – না। জাস্ট ছোটবোন হিসেবে ভালোবাসি। তবে পারিবারিকভাবে প্রস্তাব এসেছে। নিষেধ করতে চাইছি।

তানিম – এ ভুল করিসনা। এটা তোর জন্য দারুণ অফার। সুখী হবি। আর আমাদের জন্য খুব রোমান্টিক হবে। আমরা তোকে ছোটবোনের জামাইরূপে আদর করবো আর ওর সাথে ভাবী হিসেবে দুষ্টুমি করবো হোহোহো।
আমি – যাহ্ বেটা। আচ্ছা রাখতো এসব। তুই ঢাকা যাবি কবে?
তানিম – প্রসঙ্গ পাল্টাস কেন?
আমি – মাইর খাবি?
তানিম – তুই খাবি। তোরে মারুম। বেটা ভাব দেখাই লাভ নাই। আমি তোর সব বুঝি। মনে এক, বাইরে আরেক। তুই একটা গিরগিটি।

আমি – তোরে শনির দশা পাইতেছে কইলাম।
তানিম – আচ্ছা তুই বলতো, আমি যেটা বলেছি এটা কি মিথ্যে। তুই ওর প্রতি দুর্বল না?
আমি – হুম, খুব দুর্বল। কিন্তু ভয় হচ্ছে। আমার আর্থিক দুর্বলতা তাকে কষ্ট দেবেনা তো?
তানিম – তুই খুব ব্রিলিয়ান্ট। অবস্থার পরিবর্তন করতে তোর বেশী সময় লাগবেনা। প্রথমদিকে মানিয়ে নিতে পারলে ভবিষ্যতে টাকার অভাব হবেনা। সুখে কাটবে দু’জনের জীবন।

আমি – প্রথমদিকের কষ্টটা সে মেনে নিলেই তো। তবে ওরে সরাসরি জিজ্ঞাসা করে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।
তানিম – তা-ই কর।

……..চলমান

মতামত জানান