ভালো থেকো (পর্ব-৯)

শনিবার ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ ০৩:৩২

পাতাটি ১৪৫ বার পড়া হয়েছে।

৮ম পাতার পর…..

বড় আপা এসেছেন। ফোন করেছেন বাড়িতে যেতে। চললাম বাইÑসাইকেল নিয়ে। মাঝপথে ইফতেখার ভাই গতিরোধ করলেন।
চা খাও।

আমি-না ভাই তাড়া আছে।
-তোমার সাথে কথা আছে। সংক্ষেপে বলবো, বেশী সময় নেবনা।
আমি-আচ্ছা বলুন।

-শিউলীর ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। তোমার দুশ্চিন্তা আর আবেগের কথা বলেছি।
আমি-কি বললেন উনি?
-বললেন, আমরা এ বিষয় তার চেয়ে বেশী চিন্তা করেছি। তার মধ্যে সম্ভাবনা আছে। এগিয়ে গেলে সফল হবে। মানুষের জীবন সবসময় একরকম যায়না। তাছাড়া ছেলেটাকে খুব ভালো লাগে। আমাদের পরিবারের সাথে মিলবে।

আমি বললাম – ঠিক আছে। আমি একমত।
ইফতেখার ভাই বললেন – তোমার ভাবি কি বলেছে জানো?
বললাম – কি বলেছে?

-বলেছে, মিশু পাগলামী করছে। মেয়েটা খুব রূপসী, ভদ্র অমায়িক। এমন মেয়ে আর পাবেনা।
আমি বললাম – ভাইজান, শিউলীর বিষয়ে আমার চাইতে কেউ বেশী জানে বলে মনে হয়না। আমি ওকে ছোটবেলা থেকেই একতরফাভাবে ভালোবেসে আসছি। তাকে চোখে চোখে রাখছি। তার প্রতিটা অঙ্গভঙ্গি আমার মুখস্ত। আমি তাকেই পেতে চাই। হারালে পাগল হয়ে যাবো হয়তো।

ইফতেখার ভাই হেসে দিয়ে বললেন – তারপরও কেন এত চিন্তা করছিলি?
বললাম – তারে কষ্ট দিতে চাইনা, সুখী দেখতে চাই। এ গরীবের কাছে ভালোবাসা আছে অফুরান, সম্পদ নাই মোটেও।
ইফতেখার ভাই বললেন – মেয়েরা সম্পদে নয়, ভালোবাসায় সুখ পায়। যাও, এবার বাড়িতে যাও। খোঁজখবর জানাইও।

বড় আপার সাথে কুশল বিনিময় শেষে মেঝ ভাবিকে নিয়ে রুমে একান্তে বসলাম।
আমি – ভাবী, আমি অনেক চিন্তা করেছি। তুমিতো জানো শিউলীকে কতো ভালোবাসি। তাই আর অন্য কিছু মাথায় রাখছিনা। শিউলীকে চাই, যে কোন কিছুর বিনিময়ে।

ভাবী- হুম। আমাকে তো অনেক ভাব দেখাইছিলেন, এখন কই গেল এসব।
আমি – ভাবী লজ্জা দিওনা। আমি আসলে…
ভাবী-থাক থাক ছোট হওয়া লাগবেনা। আমি আম্মাকে বলবো।

আমি বললাম – আজই ওদের বাড়ি যেতে বলো। বড় আপাকেও যেতে বলো। আমি বলবোনা। এটা তোমার দায়িত্ব।
ভাবী – (হঠাৎ ভাব ধরলো যেন) আমি বিনা লাভে হাঁটতে পারিনা।
আমি – আচ্ছা! লাভ দরকার না? এইতো দিচ্ছি, আগে দরজাটা লাগাও।
ভাবী – ইস! সারাজীবনতো বাঁদরামীই করলেন, পারেননিতো কোনদিন! বলে দ্রুত কদমে বেরিয়ে পড়লো।
আমার এই ভাবীটা খুব অমায়িক। আমাকে খুব আদর যত্ন করে। অনেক দুষ্টুমি করি, প্রাণ খুলে কথা বলি।

বিকালে মা এবং বড় আপা শিউলীদের বাড়িতে গেলেন। যাওয়ার সময় বলেছি, আপনারা জাস্ট হরহামেশা গেলেন এমন ভাব দেখাবেন। পছন্দ করবেন শুধু। এঙ্গেজমেন্ট আমি করবো।

অধির আগ্রহে পথ চেয়ে আছি। কখন ফিরে আসবেন মা আর বড় আপা? তর সইছেনা যেন। অবশেষে আসলো। দুজনেরই চোখেমুখে তৃপ্তির আভা। কিছুটা পথ সামনে গিয়ে এগিয়ে আনলাম।

শুরুতেই আমার জিজ্ঞাসা – আপা কেমন দেখলেন?
আপা বললেন – আমার ভাই যেমন তার পছন্দও তেমন।
বললাম – ধুর, ইশারায় কথা বলছেন কেন? আপনার কাছে কেমন লাগলো?
আপা বললেন – বেশী কথা বলতে পারবোনা। আংটি বানাইছস?

বললাম – না, বানামু।
আপা – তাড়াতাড়ি যা, আংটি বানাই আন।
মা বললেন – মেয়েটা যেমন রূপসী, তেমন গুণবতী। আমি ঘরে ঢুকার সাথে সাথে অস্থির হয়ে পড়লো। বলল- আন্টি আপনার শরীরে ঘাম এসে গেছে। বোরখা খুলেন আমি বাতাস করছি বলে ঝটপট পাখা নিয়ে আসল আর সারাক্ষণ বাতাস করে আমাকে হিম করে ছাড়লো।

আমি – যাক, তাহলে তো আমি নিশ্চিত হতে পারি যে তার মধ্যে রূপের অহঙ্কার নাই, ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ নাই।
মা আর আপা প্রায় সমস্বরেই বলে উঠলেন – নাই।
আপা বললেন – খুব সহজ সরল প্রকৃতির মেয়ে। দম্ভ অহঙ্কার নাই। সবাইকে আপন করে নেবে। তুই সুখী হবি।

……..চলমান

মতামত জানান