ভালোবাসা বুঝে নিতে হয় : পাঁচ

শনিবার এপ্রিল ২৫, ২০২০ ০৭:৩৯

পাতাটি ৪৪২ বার পড়া হয়েছে।

৪র্থ পাতার পর…

বান্ধবীদের মুখে অনেক শুনেছি ভালোবাসার মানুষ যখন বুঝতে পারে অপর দিকেও ভালোবাসা বরাবর আছে তখনি অবহেলা শুরু হতে থাকে। এখন আমিও কথাটির প্রমান ধীরে ধীরে পাচ্ছি। আকাশ যখন বুঝতে পারলো আমার মনেও তার জন্য ভালোবাসার জন্ম হয়েছে তখন থেকে তার আমার প্রতি অবহেলা শুরু হয় (যা আমার ধারণা)।

সে আগের মত প্রতিদিন মেসেজ দেয় না, খোঁজ রাখে না। আমি কল দিলেও কখোনো রিসিভ করে কখোনো করে না। ব্যস্ততা, ফোনে চার্জ না থাকা, মোবাইল সিমে টাকা না থাকা এ ধরণের নানা অজুহাত পেতাম উত্তরে যা আমার কাছে ওর অবহেলা বলেই মনে হতে লাগলো।

মনে মনে খুব রাগ হতো ওর এ সমস্ত আচরণে তবু ওর সাথে কথা হলে রাগ মিটে যেতো। এভাবে আমাদের মান অভিমানের মাঝেই দিন কাটছিলো।

আকাশ একটু উড়ু উড়ু মনের মানুষ, সে নিজের মত করে চলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আমি ওর জীবনে আসার আগে সে যেমন ছিলো এখোনো তেমনই থাকতে চায়। কেউ তার একটু কথার অপেক্ষায় সারাটা দিন মোবাইল হাতে নেয় হাজার বার এটাও সে বুঝতে চায় না।

ও এমন কেন ? নিজের মন কে নিজেই প্রশ্ন করে কোন উত্তর পাই না খুজে। তাকেও প্রশ্ন করে লাভ নাই সে এসব প্রশ্ন কে অহেতুক বলে উড়িয়ে দেয়।

বললাম- তোমার কি সারাদিনে একটি বারও আমাকে মনে পরে না?

সে বলে- অবশ্যই মনে পরে। তুমিই তো আছো আমার সারা হ্রদয় জুড়ে। মনের মানুষ কে কি কেউ ভূলে থাকতে পারে?

বললাম- তাহলে সারাদিনে একবারো কল বা মেসেজ দাও না যে,

– আমি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকি তাই যোগাযোগের সময় পাই না এর অর্থ তোমাকে ভূলে যাওয়া নয়।

– হাজার ব্যস্ততার মাঝেও মনের মানুষের একটু খোজ খবর নেয়া তোমার দায়িত্ব, এটো জানোনা?

– হুম, জানি তো। মনের মানুষ টাকে মিস তো অনেক করি তবুও সময় আর সুযোগ যে দেয়না আমায় ছুটি।

– ঠিক আছে। তুমি তোমার ব্যস্ত জীবন নিয়েই থাকো। এমন মানুষের জন্য প্রেমিকার কি দরকার?

– প্রেমিকা দরকার প্রেম করার জন্য। দিনশেষে প্রেমিকার হাজার টা অভিযোগ শোনার জন্য না।

– অভিযোগ কে করলো তোমার কাছে?

– সেই কখন থেকে তুমিই তো বকবক করে যাচ্ছো।

– আমি বকবক করছি?(রেগে বললাম)

– আর নয়তো কি?

– সারাদিন তো খবর নাও ই না এখন বলছো আমি বকবক করি, যাও আর কথাই বলবো না তোমার সাথে। এখনি এই অবস্থা বিয়ের পর তো আমাকে সহ্যই হবে না তোমার যা দেখছি।

– সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে ঘরে এসে বউয়ের প্যানপ্যান কার সহ্য হবে?

– আমি প্যানপ্যান করবো? (আরও বেশি রেগে)

– করবে না বলে তো মনে হচ্ছে না। এখনি দূর থেকে আমার মাথা খাচ্ছো। আচ্ছা থাকো কাল কথা বলবো আমার অনেক ঘুম আসছে।

এই বলেই ঘুমিয়ে গেলো। এদিকে রাগে আমার মাথায় আগুন ধরে আছে ইচ্ছে করছে ওর মাখাটা ফাটাতে কিন্ত কাছে নেই বলে পারছি না।একে তো সারাখন ব্যস্ত আর ব্যস্ত আর তার উপর আমাকেই কথা শোনানো। সব শোধ নিবো একদিন সুযোগ টা শুধু আসুক।

এরপর দুইদিন আর ওর কোনো খবর নাই।আমার মেসেজ দেখেও উত্তর দিচ্ছে না।খুব রাগ হচ্ছিলো তার উপর কিন্তু রাগ হয়েও কি হবে আমার রাগে কি তার কিছু আসে যায়?

অবশেষে রাতে মেসেজ দিলো- কেমন আছো জান?

বললাম- এতখনে মনে পরছে আপনার জানের কথা?

– মনে তো আছোই আর নতুন করে মনে পরবে কেন বলো।

– হ্যা সেটাই তো, মনে পরার দরকার নেই।

– এভাবে কথা বলছো কেন, আজ আবার ঝগড়া করতে চাও নাকি?

– কি বললা তুমি? আমি ঝগড়া করি?

– করোই তো।

– ঠিক আছে তাহলে আমার সাথে আর কথাই বলবা না।আমি তো শুধু ঝগড়া করি।

– তোমার সাথে কথা না বললে আর সাথে কথা বলবো তাহলে,

– সেটাও কি আমিই বলে দিবো?

– হ্যা, অবশ্যই।

– জি না, আমার অত সময় নেই আর তাছাড়া আমি তো ঝগড়াটে, খুব পচাঁ তাই আমার থেকে কোনোকিছু আশা করা ঠিক হবে না তোমার জন্য।

– আরে না, কে বললো তুমি পচাঁ। তুমি মোটেও পচাঁ নও, অনেক সুইট।

– একদম হাওয়া দিয়ে কথা বলবে না।আমি জানি তুমি আমাকে একটুও পছন্দ করো না আর এজন্যেই আমার সাথে যোগাযোগ কর না ইচ্ছা করেই।সব বুঝি আমি।

– কই আর সব বুঝলে, আমার ভালোবাসা টা ই আজও বুঝলে না।

– একটুও ভালোবাসো না তুমি আমাকে, কি বুঝবো আমি?

– সমস্যা নাই আস্তে আস্তে বুঝে যাবে। তা, এখন কি করছো?

– কি আর করবো, তোমার সাথে ঝগড়া করছি।

– তাহলে স্বীকার করলা তুমি যে ঝগড়া করো?

– হ্যা, আমি ঝগড়া করি, আমি ঝগড়াটে আর সারাজীবন তোমার সাথে ঝগড়া করবো এবার ভেবে দেখো সহ্য করতে পারবে কিনা।

– আমি কি সারাখন ঘরে বসে থাকবো নাকি তোমার ঝগড়া দেখার জন্য।

– রাতে যখন ঘরে ফিরবা তখন ঝগড়া করবো।

– না না এমন করবে না তুমি।

– হ্যা, এমন ই করবো। কি করবা তখন আমাকে ঘর থেকে বের করে দিবে?

– না, আমিই বের হয়ে যাবো। ঘরের বউ কে তো বের করে দিতে পারবো না।

– কেন পারবে না, তোমার মনে কি আমার জন্য কোনো মায়া দয়া আছে নাকি?

– মায়া, দয়া, ভালোবাসা সবই আছে।

– কচু আছে।

– হ্যা সেটাও আছে, আমাদের বাড়ির পিছনে। তোমার লাগলে বইলো পাঠিয়ে দিবো কিছু।

– এত রাতে ইয়ারকি করছো আমার সাথে?

– হুম।

– তুমি এমন কেন বলোতো?

– কেমন আমি?

– খুব দুষ্ট তুমি।

– হ্যা, আর তুমি খুব মিষ্টি।

এরপর ঝগড়া শেষে কিছু মিষ্টি কথার মধ্য দিয়েই সেদিনের কথাবার্তা শেষ করলাম।

ওর সাথে এমন খুনসুঁটিতে মেতে থাকা, সারাদিন ওর মেসেজের অপেক্ষা, বেশি কথা বলে ও কে রাগিয়ে দেয়া, কৌশলে ওর ভালোবাসার প্রকাশ বের করা , মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই তাকে রাগানো এসব ভালো লাগার মূহূর্ত গুলো প্রতিদিনকার একটা অংশ হয়ে গেলো।

চলমান….

ভালোবাসা বুঝে নিতে হয়

মতামত জানান