জঙ্গী সন্ত্রাস প্রতিরোধে মুসল্লিদের সঙ্গে ওসি জামাল উদ্দিন মীর এর মতবিনিময়

ফিচার

জঙ্গী সন্ত্রাস প্রতিরোধে জনমত সৃস্টির লক্ষ্যে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজ ১২ জানুয়ারি ২০১৮ রোজ শুক্রবার, নবীনগর ২-নং রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, নবীনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদে জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্যেশ্যে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মীর বলেন, কোন ধর্মই মানুষ হত্যা সমর্থন করে না। যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে তাদের কোন ধর্ম নাই। বাংলাদেশের জনগণ কোনও ধর্মাদ্ধ-উগ্রবাদি গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত করেনি। সন্ত্রাসীদের কোন ভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

জঙ্গি-সন্ত্রাস প্রতিরোধ বাড়ির মালিকদেরকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অপরাধী ও জঙ্গীরা বিভিন্ন এলাকায় ভ‚য়া পরিচয় দিয়ে অনেক সময় বাসা ভাড়া করেন। বেশ কিছু বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকও উদ্ধার করছে। ভাড়াটিয়াদের সঠিক তথ্য ও ছবি থাকলে তাদেরকে চিহ্নিত করা সহজ হবে। এ সব দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করে থানাতে জমা দিবেন। তাছাড়াও আপনাদের বাসা বাড়ীতে কাজের ছেলে-মেয়ে ও ড্রাইভার রাখেন, তাদের বিষয়ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে থানাতে জমা দিবেন।। তারা যদি আপনাদের বাসা বাড়ীতে কোন রকম দুর্ঘটনা ঘটায় তাহলে আমাদের চিহ্নিত করতে সহজ হবে। মোহাম্মদপুরে এমনও ঘটনা ঘটছে বাসা বাড়ীতে কাজের ছেলে-মেয়ে ও ড্রাইভার চুরি করে পালিয়ে গেছে কিন্তু বাসার মালিক থানাতে এসে তাদের কোন তথ্য দিতে পারে নাই।

তিনি জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তির বিষয়ে অভিভাবকদের প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমার আপনার সন্তান কোথায় যায়, কি করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, সময় মতন স্কুল-কলেজ থেকে বাসা বাড়ীতে আসছে কিনা, ল্যাপটপ-মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন খারাপ লোকজনের সাথে যোগাযোগ করছে কিনা, সে সব বিষয়ে অবশ্যই খোজ খবর রাখতে হবে। সন্তানদের যদি কোন সমস্যা থাকে সেটা ভাল করে শোনা এবং তাদের সঙ্গে পারস্পরিক একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরী করা।

জামাল উদ্দিন মীর বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গীরা হামলা করে কযেকজন বিদেশীকে হত্যা করেছিলো। তাছাড়াও উপমহাদেশের বৃহত্তম শোলাকিয়ার ঈদজামাতকে টার্গেট করে জঙ্গী হামলা করেছিলো। আমরা আগে মনে করতাম হয়তো মাদ্রাসার গরীব ছাত্রদের টার্গেট করে ধর্মাদ্ধ-উগ্রবাদি গোষ্ঠীরা এ গুলি করছে। আসলে সেটা পুরাপুরি সটিক না। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাবেক শিক্ষকরা এর জড়িত।
তিনি আরো বলেন, অন্যায়ভাবে একজন মানুষ হত্যা করাকে কোরআনে কারিমে ”সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা” করার নামান্তর আখ্যায়িত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনুল কারিমে অন্যায়ভাবে হত্যা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধ সম্পর্কে ইরশাদ করেন-যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল, আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করল সে যেন সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। অন্যায়ভাবে হত্যার শাস্তি সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন- কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লা’নত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তত রেখেছেন।

অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার তরে প্রথম যে বাহিনী সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তা হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। এতে অনেকেই শহীদ হন। বর্তমানে জঙ্গী, সন্ত্রাসীদের দমন করতে যেয়ে অনেক পুলিশ অফিসার শহীদ হয়েছে। কাজেই জঙ্গী, সন্ত্রাসীদের এদেশে আশ্রয় দিতে পারি না। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী বর্তমানে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসীদেরকে দমন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই আসুন আমরা সকলে মিলে জঙ্গী, সন্ত্রাসমুক্ত করি। সোনার বাংলা গড়ে তুলি।

মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং মাদকাসক্তির প্রতিরোধ করার জন্য মসজিদের, খতিব (আলহাজ্ব হাফেজ মুফতী) মুহাম্মদ আলী কারীমি ও মোয়াজ্জেম হাফেজ মাসুদুর রহমান এবং মুসল্লিগণ মোহাম্মদপুর থানার জনপ্রিয় অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মীরকে ধন্যবাদ জানান।

এছাড়াও ২০১৭ সালে প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ যেমন-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, জঙ্গী-সন্ত্রাস দমন’সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজের অবদানের জন্য আইজিপি পদক পাওয়ায়, কিশোরগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান ও মোহাম্মদপুর থানার জনপ্রিয় অফিসার ইনচার্জ জনাব জামাল উদ্দিন মরীকে মসজিদের মুসল্লিগণ অভিনন্দন জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *