জিবিএক্সকাণ্ডের পর নিরাপত্তা নিয়ে বন্দরের উদ্বেগ

চট্টগ্রাম

বহির্নোঙরে বিদেশি জাহাজে শিপিং এজেন্ট জিবিএক্স লজিস্টিক্স লিমিটেডের পাঠানো বোটের মাঝির ব্যাগে বিদেশি মদ ধরা পড়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এ বিষয়ে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দরের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার গনমাধ্যমকে বলেন, “ওই ঘটনা ছোট মনে হলেও যে কেউ বিদেশি জাহাজে গেলে নিরাপত্তার সঙ্কট হতে পারে। জাহাজে চুরি বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে তা ফলাও করে প্রচার হবে এবং আন্তর্জাতিক বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের রেপুটেশন খারাপ হতে পারে।”

এজন্যই শিপিং এজেন্টগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত এমভি ওয়েল লঙ্কা জাহাজে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট জিবিএক্স লজিস্টিক্স লিমিটেডের পাঠানো নৌযান তল্লাশি করে পাঁচ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (নিরাপত্তা) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বরাবরে পাঠানো হয়।

জিবিএক্স লজিস্টিকস লিমিটেড সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘হাপাগ-লয়েড’র বাংলাদেশ এজেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগে সম্প্রতি হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন হয়েছে, যা শুনানির অপেক্ষায় আছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠিতে শিপিং এজেন্ট মনোনীত ছাড়া কাউকে বিদেশি জাহাজে না পাঠানো, ছোট নৌযান পাঠানোর সময় বন্দরের রেডিও কন্ট্রোলকে অবহিত করা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুমোদনহীন বা বিপজ্জনক পণ্য বিদেশি জাহাজ থেকে স্থলে পরিবহন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি বিদেশি জাহাজে দাপ্তরিক কাজের জন্য শিপিং এজেন্টের পাঠানো নৌযানের নিবন্ধনের জন্যও বলা হয়েছে।

ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, “বহির্নোঙরে এমভি ওয়েল লঙ্কা জাহাজে শিপিং এজেন্ট জিবিএক্স লজিস্টিক্স প্রয়োজনীয় নথিপত্র জাহাজের মাস্টারকে সরবরাহের জন্য একটি বোট পাঠায়। বোটের মাঝি তার সাথে থাকা নথিপত্রের ব্যাগ নিয়ে জাহাজ থেকে নামার সময় এতে কর্তব্যরত চিফ ওয়াচম্যান ব্যাগ তল্লাশি করে পাঁচ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে।”

ওই বোটে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের অনুমোদিত কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, এজেন্টের মনোনীত প্রতিনিধি ছাড়া বিদেশি জাহাজে বোট পাঠানো নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি করে। এতে করে জাহাজে চুরি বা ডাকাতির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

অননুমোদিত পণ্য বা মাদক অবৈধ পন্থা বা চোরাচালানের মাধ্যমে বড় জাহাজ থেকে দেশের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে নিরাপত্তার ঝুঁকি হতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন্দরের ওই কর্মকর্তা গনমাধ্যমকে বলেন, “বহির্নোঙরে থাকা বিদেশি জাহাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিপিং এজেন্টের মনোনীত প্রতিনিধি অবশ্যই থাকা উচিত এবং বন্দরের নিরাপত্তা নীতিমালা মানা উচিত। না হলে বন্দর সিকিউরিটির বিষয়ে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।”

বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠির পাওয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী গনমাধ্যমকে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন-আইএমও কনেভনশন অনুযায়ী বিদেশি জাহাজে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত।

“এ ধরনের ঘটনা (জিবিএক্স লজিস্টিক্স) কোনোভাবেই কাম্য নয়। এসব ঘটনা থেকে বিরত থাকতে বিদেশি জাহাজে পাঠানো নৌযানে এজেন্টের লোক অবশ্যই থাকা উচিত।”

আহসানুল হক বলেন, সামনে এসোসিয়েশনের বোর্ড সভা আছে। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) মো. জাফর আলম গনমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনা ছোট হলেও এসবের কারণে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

“আন্তর্জাতিক বন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে শিপিং এজেন্টদের বন্দরের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *