রূপা ও তার পুরুষেরা : দুই

মঙ্গলবার মে ৫, ২০২০ ০৯:২২

পাতাটি ৬৫৪ বার পড়া হয়েছে।

তিনদিন পর আকাশের হুশ ফিরেছে৷ হাসপাতালের বেডে শুয়ে তার মনে পড়ছে রূপার কথা৷ কী সুন্দর মুখশ্রী রূপার! শান্ত, কোমল, মনোহারিনী! আকাশ ভাবতে পারে না, রূপা এমন করতে পারে৷

রূপার সাথে আকাশের পরিচয় হয়েছিল চকবাজারে এক বন্ধুর অফিসে৷ প্রেমে পড়ার সে পুরোনো পদ্ধতি, প্রথম দেখাতেই ভালো লাগা৷ সে তার বন্ধু নবীনকে জিজ্ঞেস করলে মেয়েটি কে রে?

নবীন জানালো, মেয়েটি চাকরি প্রার্থী৷ তবে তার কাজ হবে না, আমার কাজ জানা লোক দরকার৷

নবীন বললো, কাজ যদি সে একমাসের মধ্যে শিখে নিতে পারে?

— আরে, বেটা! আমি তো কাজ জানা লোক পাচ্ছি, কাজ না-জানা লোককে প্রশিক্ষণ দিতে যাবো কোন দুঃখে?

— মেয়েটি আমার পছন্দ হয়েছে৷ তুই এককাজ কর, মেয়েটিকে নিয়োগ দে৷ যতদিন সে কাজ শিখতে না পারে, ততদিন আমি তোর অফিসে বিনা বেতনে কাজ করে দিবো৷

— ধূর! তা হয় নাকি?

— তুই চাইলেই হবে৷

নবীন হুম বলে চুপ করে থাকে৷ কিছুক্ষণপর আকাশ আবার বলে, এককাজ করি, মেয়েটির বেতনও আমিই দিবো৷ তুই রাজি হয়ে যা৷

— তোর তো অনেক টাকা, তুই এই মেয়ের বেতন কেন, আমার সব ষ্টাপের বেতনও দিতে পারবি৷ কিন্তু এই মেয়েকে আমি রাখবো না৷

— কেন রাখবি না?

— তুই আমার অফিসকে কি বৃন্দাবন বানাতে চাস নাকি?

আকাশ নবীনের হাত ধরে বলে, কোনদিন কোন মেয়ের দিকে তাকাতে দেখেছিস আমাকে? জীবনে প্রথম কোন মেয়ের দিকে তাঁকালাম৷ আমি তো চোখ ফেরাতে পারবো না৷

— যা, আমার ব্যবসা লাটে উঠুক৷ তবু ওর চাকরি ফাইনাল করলাম৷

রূপার চাকরী হয়ে যায় নবীনের অফিসে৷ বেতনও অন্যদের তুলনায় বেশি ধরা হয়েছে৷ মাসের একুশ তারিখ৷ নবীন ভেবেছিল এক তারিখ থেকে আসতে বলবে রূপাকে৷ কিন্তু বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে এই যে শ্রাবণের আকাশ৷ পরে রূপাকে বলে, আপনি চাইলে আগামীকালই কাজে যোগ দিতে পারেন৷

রূপার কাজটি অনেক দরকার ছিল৷ এর আগে সে একটি কিণ্ডার গার্টেনে শিক্ষকতা করতো৷ বেতন ছিল সামান্য৷ তবু মা আর একমাত্র কন্যা দীপাকে নিয়ে কোন রকমে দিনাতিপাত করতে পারতো৷ কিন্তু ডিসেম্বর মাসে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় রূপা যেন নতুন চাকরী দেখে৷ এরপর গত দুমাস সে বেকার৷ হাতে টাকা নেই৷ ধার করে চলছিল৷ অনেক জায়গায় ধর্ণা দিয়েও কাজ পায়নি রূপা৷ শেষে স্থানীয় একটি দৈনিকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে আবেদন করে সে৷ এই চাকরিটি তা হবে এমন আশা সে করেনি৷ সে জানে, চেনাজানা লোকেদের মাঝেই চাকরি বণ্টন হয়ে যায়৷ কিন্তু যখন শুনলো, ইচ্ছে করলে আগামীকালই কাজে যোগ দিতে পারবে, তখন খুশিতে লাফিয়ে উঠে সে৷ চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তার৷ খুশি হয়ে বলে, ঠিক আছে৷ স্যার, আমি কালই যোগ দিবো৷

নবীন বলে, আপনি এখন যেতে পারেন৷ অবশ্য, দুপুরের খাবার একসাথে খেতে আপত্তি না থাকলে খুশি হবো৷ আর যাবার সময় রুমকি মেডামের সাথে দেখা করে যাবেন৷

নবীন, রূপা আর আকাশ আরব রেষ্টুরেণ্টে দুপুরের খাবার খায়৷ বিল পরিশোধ করে আকাশ৷ খেতে খেতে নবীন রূপাকে আকাশের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, ইনি মিষ্টার আকাশ৷ আমার বন্ধু৷ উনি কিন্তু দক্ষ লোক, মাঝে মাঝেই অফিসে আসবেন৷ আপনার কাজ ভালো ভাবে শিখতে চাইলে উনার সাহায্য নিতে পারবেন৷

রূপা আকাশের পানে তাকায়৷ অনেক্ষণ একসাথে থাকলেও সে এতক্ষণ লক্ষ করেনি, আকাশ লোকটি চমৎকার, সুদর্শন৷

মিস রুমকি ক্যাশ থেকে টাকা বের করে রূপার হাতে দিতে দিতে বললেন, আপনি লাকি, ম্যাম৷ কাজ শুরু না করতেই অর্ধেক বেতন পেয়ে গেলেন৷ আর এই টাকা বেতন থেকেও কাটা হবে না৷

রুপা ও তার পুরুষেরা

মতামত জানান